ভারতের পুশইন আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থি: খেলাফত মজলিস
আপডেট সময় :
২০২৬-০৬-১১ ১৫:০৫:১৭
ভারতের পুশইন আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থি
নিজস্ব প্রতিবেদক
খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, গত এক মাস ধরে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ভারতে কোনো বাংলাদেশি
অবৈধভাবে অবস্থান করলে বা কোনো অপরাধ সংঘটন করলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নানা প্রক্রিয়া ও ধাপ রয়েছে। যেমন গ্রেপ্তার করে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দেশে ফেরত কিংবা দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার পর বিষয়টি নিষ্পত্তি করা। কিন্তু ভারত এ বৈধ পন্থা এড়িয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
এ আচরণ সৎ প্রতিবেশীসুলভ নয়। আমরা ভারতের এই অপতৎপরতায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বুধবার সন্ধ্যায় পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ কখনোই পুশইনের মতো একপেশে বন্দোবস্ত মেনে নিতে পারে না| ভারত যদি নিজেকে এ অঞ্চলের একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে দাবি করে, তাহলে তাকে অবশ্যই আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির প্রতি সম্মান জানাতে হবে। কেবল বাংলাভাষী হওয়ার অজুহাত বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়| পুশইনের এ প্রক্রিয়াটি কেবল অমানবিকই নয়, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থিও।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সীমান্ত চুক্তিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের তাগিদ দিতে হবে। কেবল আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। পুশইন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড-বিজিবি যে সর্বোচ্চ
তৎপরতা চালাচ্ছে, আমরা তাদেরকে সাধুবাদ জানাই এবং এই তৎপরতা অব্যাহত রাখার দাবি জানাই। বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই প্রভৃতি অপরাধের মাত্রা বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে উঠেছে।
লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে। ব্যাংকিং খাতে আবারো অস্থিরতা সৃষ্টি করে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে। এই অবস্থা থেকে দেশের মানুষ মুক্তি চায়। নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, মাওলানা শেখ সালাহউদ্দিন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসাইন মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. মাহবুবুর রহমান, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, জিল্লুর রহমান, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূইয়া, আবুল হোসেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, আমির আলী হাওলাদার প্রমুখ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স